হিং টিং ছট এর যাত্রা শুরু!

হিং টিং ছট! নামটা যেমন মজার, তেমনি এর আয়োজনগুলিও। কিউবের ছট, রানিং থ্রু পিরিয়ডস, অবিজ্ঞানের ছট, ট্যানগ্রাম ছট, ডার্ট চ্যালেঞ্জ, প্রশ্নের ছট, এক্সপেরিমেন্ট, থ্রিডি ছবি দেখা, নানা ধরণের বিজ্ঞানের কুইজ, গেমস, ছু বিজ্ঞান ছু – এরকম মজার এবং বিচিত্র সব আয়োজন ছিল এবার জাতীয় গণিত উৎসবে, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির। এই আয়োজনগুলির মধ্য দিয়েই গত ১২ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে অনুষ্ঠিত ১৪তম জাতীয় গণিত উৎসবে শুরু হয়েছে শূন্য থেকে আঠারো বছর বয়সীদের জন্য এসপিএসবির আয়োজন – হিং টিং ছট। একদম সোজা কথায়, বিজ্ঞান নিয়ে বাচ্চাদের যা-ইচ্ছে-তা-করার আয়োজন হচ্ছে হিং টিং ছট।

শিশু-কিশোরদের জন্য এসপিএসবি বেশ কিছু বড়সড় আয়োজন করে, যেমন- Children Science Congress, Bangladesh Junior Science Olympiad। এসবের বাইরেও এসপিএসবি বছরজুড়ে বাচ্চাদের জন্য বিজ্ঞান স্কুল, এক্সপেরিমেন্ট দেখানোর কার্যক্রম, বিজ্ঞান কুইজ, চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড -এরকম বিভিন্ন ধরণের কাজ করে। বিজ্ঞান নিয়ে সিরিয়াস ধরণের পড়াশোনার বাইরেও বিজ্ঞানের যে খুব মজার একটা জগৎ আছে, সেটার সাথে বাচ্চাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য এসপিএসবি যে আয়োজনগুলি করে, সেগুলির জন্য আমরা অনেকদিন ধরেই একটা নাম খুঁজছিলাম। নামের জন্য যেহেতু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে ভালো কেউ হতে পারেন না -তাই অনেক ভাবনাচিন্তার পরে তাঁর কবিতা থেকেই নামটা ঠিক করা হয়েছে শেষ পর্যন্ত। নামটা প্রস্তাব করেছে এসপিএসবির অ্যাকাডেমিক টিমের সদস্য বুয়েটের শিক্ষার্থী হাসান নাহিয়ান নোবেল – এই ফাঁকে সেটা জানিয়ে রাখা দরকার।

যে গেমস এবং পাজলগুলি স্টলে ছিল, সেগুলির নাম দেয়ার সময় মাথায় রাখা হয়েছে, বাচ্চারা যাতে বিজ্ঞানকে বিরক্তিকর এবং কাঠখোট্টা কিছু বলে মনে না করে। অবিজ্ঞানের ছট, রানিং থ্রু পিরিয়ডস, প্রশ্নের ছট, ট্যানগ্রাম ছট, ছু বিজ্ঞান ছু, কিউবের ছট, ডার্ট চ্যালেঞ্জ – নামগুলি শুনে আর যাই লাগুক, ভয় পাবার ব্যাপারটা যে ছিল না, সেটা আমরা টের পেয়েছি গত দুই দিনে স্টলে ভিড়ের অবস্থা দেখে। এমনকি উৎসব শেষ হয়ে যাবার পরেও ভিড় লেগে ছিল একইরকমভাবে। লিডারবোর্ড ছিল, যেখানে সর্বোচ্চ স্কোরারদের নাম এবং স্কোর দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাচিভমেন্টের জন্য ছিল পুরষ্কার। রানিং থ্রু পিরিয়ডস গেমটার কথা আলাদাভাবে বলতে হয় – কারণ এটি প্রতি আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। যারা সেটা খেলেছে, তারা দুই দিনে পিরিয়ডিক টেবিল এবং মৌলের ধর্ম নিয়ে এমন অনেক ইন্টারেস্টিং ব্যাপার-সেপার জেনেছে, যেগুলি হয়তো তাদের জানা হতো আরো অনেক পরে। এছাড়া ছিল বিভিন্ন ধরণের কম্বিনেশন পাজল, স্টলে এসে যেকেউ সেগুলি সলভ করার চেষ্টা করতে পেরেছে।

এছাড়া প্রথম দিন বিকেলে মূল মঞ্চে ছিল হাতেকলমে এক্সপেরিমেন্ট দেখানোর আয়োজন ছু বিজ্ঞান ছু! একজন জাদুকর যেমন হাতে জাদুর কাঠি নিয়ে বলেন ছু মন্তর ছু, আর সেই জাদু দেখতে যেমন অনেক মজা, তেমনি বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্টও যে কম মজার এবং বিস্ময়ের না- সেটা বেশ কিছু এক্সপেরিমেন্ট করে হাতেকলমে দেখানো হয়েছে। পৃষ্ঠটানের মতো পানির একটা ধর্মের কারণে যে গ্লাস উপুড় করে ধরে থাকলেও, নেটের ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে গ্লাস খালি হয়ে যায় না, সেটা নিজের চোখে দেখার পরেও অনেকের বিশ্বাস হতে চায়নি সেদিন!

গণিত উৎসবে হিং টিং ছটের পরিকল্পনা, স্টল এবং গেমস ডিজাইন নিয়ে কাজ করেছে ইবরাহিম মুদ্দাসসের, কামরুল হাসান, হাসান নাহিয়ান নোবেল, নায়লা রওনক, নাফিস ওয়াহাব নিটোল, তানভীরুল ইসলাম, নওরিন ইসলাম, সায়েফ রহমান আবির, নাজিয়া কাইয়ুম নিঝুম, জুলিয়ান জাওয়াদ আহমেদ, তাফসীর অনি, জুনায়িদুল ইসলাম এবং শিবলী বিন সারওয়ার। সহযোগিতা করেছে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক। বাংলাদেশের ফাস্টেস্ট কিউবার সাকিব ইবনে রশীদ ঋভু তার পুরো কিউবের কালেকশন দিয়েছিল স্টলে প্রদর্শনের জন্য। তাকে ধন্যবাদ। পুরো অ্যালবামের ছবি তুলেছে নোশিন ইসলাম হৃদি।

Comments

comments

This entry was posted in . Bookmark the permalink.