ব্যবহারিক বিজ্ঞানের হাতেখড়ি

আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার (ম্যাস ল্যাব) কর্তৃক আয়োজিত হাতেকলমে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রথম কোর্স “ব্যবহারিক বিজ্ঞানের হাতেখড়ি”। দশদিনব্যাপী এ কোর্সে ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও পরিসংখ্যানের প্রাথমিক বিষয়গুলো ব্যবহারিক পরীক্ষানিরীক্ষা করে শিক্ষার্থীরা শেখার সুযোগ পায়।

কোর্স শেষে আজ অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক রেজাউর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মাদী। শিক্ষার্থীদের সবাইকে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করার সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞান কেবল বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, বিজ্ঞান হল হাতেকলমে পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখা। পাঠ্যবইয়ে লেখা বিষয়গুলো পরখ করে দেখা। মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগারে বইয়ে পড়া এই বিষয়গুলোই হাতে কলমে করে দেখেছে শিক্ষার্থীরা।

পদার্থবিজ্ঞানে নিউটনের গতিসূত্রের প্রমাণ, সরল দোলকের মাধ্যমে অভিকর্ষজ ত্বরণ নির্ণয়, চশমার পাওয়ার, কঠিন বস্তুর ঘনত্ব নির্ণয়, তাপ, তাপমাত্রা, আপেক্ষিক তাপ, সুপ্ততাপের মত প্রাথমিক বিষোয়গুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে।

রসায়নের ক্ষেত্রে আমরা যে ডিম খাই তার ঘনত্ব, দ্রবণ তৈরী, দ্রবণ থেকে ক্রিস্টাল তৈরী, টাইট্রেশন করে কোন কিছুর ঘনমাত্রা নির্ণয়, সাবান তৈরী ইত্যাদি পরীক্ষণ করে দেখেছে শিক্ষার্থীরা।

জীববিজ্ঞানে আমাদের শরীরের অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেন থেকে কীভাবে রক্তের গ্রুপ তৈরী হয়, এবং কীভাবে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা যায়, আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, উদ্ভিদের কোষপর্যবেক্ষণ, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ব্যবহার, আমরা যে পানি পান করি, সেখানে অণুজীবের উপস্থিতি এমন নানা বিষয় হাতেকলমে পরীক্ষা করে দেখে শিক্ষার্থীরা।

ইলেক্ট্রনিক্সের একেবারে প্রাথমিক বিষয়গুলো, যেমন কারেন্ট, ভোল্টেজ, রোধ ইত্যাদি পরিমাপ করা, এগুলো ব্যবহার করে ছোট সার্কিট তৈরি, সার্কটি তৈরি করে লাইট ইমিটিং ডায়োড জ্বালানো, ৫৫৫ টাইমার আইসির ব্যবহার ইত্যাদি শিক্ষার্থীরা শিখেছে। এরপর সবাই মিলে একটি স্বয়ংক্রিয় ইনকিউবেটর তৈরি করে, যা দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কোন একটি জৈবিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়।

পরিসংখ্যানে শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় কীভাবে ব্যবহারিকের বিষয়গুলো হিসাব নিকাশ করতে হয়, ব্যবহারিকের সময় প্রাপ্ত নানা ডাটা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য কীভাবে বের করতে হয়, পরীক্ষণে কী ধরনের ভুল হতে পারে এবং তা কীভাবে কমানো যায় ইত্যাদি।

এই কোর্সের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থাও ছিল। কিছুদিন পর আবারও এই প্রারম্ভিক কোর্সটি শুরু হবে। এছাড়া উচ্চতর বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে ম্যাস ল্যাব আরো দুটো নতুন কোর্স শীঘ্রই শুরু করবে।

উল্লেখ্য, মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির (এসপিএসবি) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রয়াত জিনবিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নামে তৈরী করা একটি বিজ্ঞানাগার। এতে ছেলেমেয়েরা হাতেকলমে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখার সুযোগ যেমন পাবে, তেমনি এই বিজ্ঞানাগারেই বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের ব্যবহারিক অংশের প্রস্তুতি নিবে। গুগল সায়েন্স ফেয়ার কিংবা শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেসের জন্য কেউ কোন প্রজেক্ট করতে গিয়ে কিংবা পেপার লিখতে গিয়ে যেসব এক্সপেরিমেন্ট করার প্রয়োজন হবে, সেগুলিও এই ল্যাবেই করতে পারা যাবে। ল্যাবটি মিরপুরের পশ্চিম মণিপুরে অবস্থিত। ল্যাবটি নিয়ে আরো জানতে পারা যাবে এসপিএসবির ওয়েবসাইট spsb.org/MASLab এ।

Comments

comments

This entry was posted in . Bookmark the permalink.