চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডঃ ৪র্থ পর্ব

৩০ মার্চ সোমবার ঢাকার কে এল জুবিলী স্কুল এন্ড কলেজে তাপআয়ন তত্ত্বের জনক মেঘনাদ সাহার জীবন এবং কাজ নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞানবিষয়ক বক্তৃতা চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড এর চতুর্থ পর্বটি। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহসভাপতি মুনির হাসান “রিমেমবারিং মেঘনাদ সাহা: ফাদার অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স” শীর্ষক এই পর্বে বক্তৃতা দেন।

নক্ষত্রের বর্ণালি ব্যাখ্যা করার সমীকরণের আবিষ্কারক হলেন মেঘনাদ সাহা, যে সমীকরণটি সারা পৃথিবীতে “সাহা সমীকরণ” নামে পরিচিত। মেঘনাদ সাহাকে বলা হয় জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের জনক। মেঘনাদ সাহার জন্ম ঢাকার কাছে শেওড়াতলী গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারে হলেও নিজের মেধা, অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং গবেষণার প্রতি তুমুল আগ্রহ তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সমগ্র পূর্ববাংলায় মেট্রিক পরীক্ষায় ৩য় স্থান অধিকার করার পাশাপাশি স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সত্যেন্দ্রনাথ বসুর পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব তিনি জার্মান ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন এবং বই আকারে প্রকাশ করেন। এটি ছিল আইনস্টাইনের জার্মান নিবন্ধের প্রথম ইংরজি অনুবাদ। ১৯১৯ সালে তিনি নিজে নিজে যেসব গবেষণা করেছেন, সেটার জন্য কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর আবিষ্কৃত “সাহা সমীকরণ”কে বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্যার আর্থার এডিংটন জ্যোতির্বিজ্ঞানের ১২ তম অন্যতম সেরা আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তাঁর আবিষ্কৃত এই সমীকরণটি ব্যাবহার করা হয়েছে জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের অসংখ্য গবেষণায়। ১৯৩৫ ও ৩৬ সালে, পরপর দুবছর মেঘনাদ সাহার নাম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কারের জন্য প্রস্তাব করা হয়, যদিও তিনি পুরষ্কার পাননি।

মুনির হাসান বলেন, মেঘনাদ সাহার নামে ভারতে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাংলাদেশে তেমন কোন প্রতিষ্ঠানই নেই। কে এল জুবিলী স্কুলে তাঁর নামে অবশ্য একটি বিজ্ঞানাগার আছে। আমাদের উচিৎ তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁর কাজকে সবার কাছে ছড়িয়ে দেয়া। তাঁর অবদানকে আমরা এবং পৃথিবীবাসী চাইলেও কখনো ভুলতে পারবে না। বক্তৃতাশেষে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। যারা প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে, তাদেরকে পুরষ্কার দেয়া হয়।

Comments

comments

This entry was posted in . Bookmark the permalink.