চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডঃ ৫ম পর্ব

২ এপ্রিল ঢাকার বিসিএসআইআর হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে চিলড্রেন সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের পঞ্চম পর্বটি। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহসভাপতি মুনির হাসান বলেছেন তিন বাঙালি বিজ্ঞানী – তিন বসুকে নিয়ে: সত্যেন বসু, জগদীশ চন্দ্র বসু আর অমর বসু।

সত্যেন বসুর নামে মহাবিশ্বের অর্ধেক কণার নাম দেয়া হয়েছে- বোসন। কাজেই যখন হিগস বোসন কণাটির সম্ভাব্য আবিষ্কার নিয়ে হইচই হয়, তখন পিটার হিগসের নামের সাথে উচ্চারিত হয় আমাদের সত্যেন বসুর নামও! বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিকস, বোস গ্যাস, বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট নামে তাঁর নামে আছে বেশ কিছু যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক ধারণা। তিনি তাঁর জীবনের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন আমাদেরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই।

জগদীশ চন্দ্র বসু ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তথ্য পাঠানোর রূপকার, ১৮৯৪ সালে তিনি কলকাতায় প্রথম বিনা তারে বার্তা প্রেরণ এবং তা গ্রহণ করার কৌশন সবাইকে দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দেন! জগদীশ চন্দ্র বসু তাঁর এই আবিষ্কারের কোন পেটেন্ট করেননি, বিজ্ঞানীদের অনুরোধ সত্ত্বেও। তিনি ছিলেন মুক্ত দর্শনের বিজ্ঞানী। অনেকেরই ধারণা, জগদীশ চন্দ্র বসু যদি মাইক্রো তরঙ্গ নিয়ে তাঁর গবেষণাকে আরো এগিয়ে নিতেন, তাহলে ১৯০১ সালের প্রথম নোবেল পুরস্কারটি একজন বাঙালি পেলেও পেতে পারতেন! বেতার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তিনি গাছের অনুভূতি মেপে বের করার উপায়েরও আবিষ্কারক। গাছের বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য জগদীশ চন্দ্র বসু বানিয়েছেন ক্রেসকোগ্রাফ নামে একটি যন্ত্র।

আরেক বাঙালি বিজ্ঞানী অমর গোপাল বসু প্রতিষ্ঠা করেছেন পৃথিবীর সেরা স্পিকার এবং সাউন্ড সিস্টেম বানানোর প্রতিষ্ঠান Bose Corporation, যেটি ডিজাইন করেছে বিমান কিংবা গাড়িতে গান শোনা কিংবা ছবি দেখার জন্য এমন হেডফোন, যেটি ‘৮০ সালের পর যানবাহনের শব্দের ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজকে ইতিহাসে পরিণত করেছে। বোস কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। ১৯৮৩ সালে বোস কর্পোরেশন “বোস অডিশনার” নামে একটি সফটওয়্যার বাজারজাত করে, যা দিয়ে একটি হলঘরের কোন একটি সারি বা কলামের দর্শক কেমন শুনতে পাচ্ছে, সেটি সিমুলেশন করা যাবে। এটি ব্যাবহার করে এখন ডিজাইন করে হচ্ছে বিশ্বের বড় বড় পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমগুলি! এছাড়াও বোস কর্পোরেশন ডিজাইন করেছে “বোস সাসপেনসন সিস্টেম”, যেটি গাড়ির মেকানিক্যাল শক অ্যাবজর্ভারকে প্রতিস্থাপন করেছে।

মুনির হাসান বলেন, এই তিন বাঙালি বিজ্ঞানীর উত্তরাধিকার হচ্ছে আজকের ছেলেমেয়েরা। তাদের উচিৎ, এই বিজ্ঞানীদের পথ অনুসরণ করে নিজেদেরকে গবেষণায় নিয়োগ করা, নতুন কিছু নিয়ে ভাবা, পরীক্ষানিরীক্ষা করা এবং দেশের জন্য কাজ করা।

বক্তৃতাশেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। যারা প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে, তাদেরকে পুরষ্কার দেয়া হয়।

Comments

comments

This entry was posted in . Bookmark the permalink.