গ্রীষ্মকালীন বিজ্ঞান ক্যাম্প

২৬ মে মঙ্গলবার থেকে ৩০ মে পাঁচদিন ধানমণ্ডির তক্ষশীলা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের গ্রীষ্মকালীন বিজ্ঞান ক্যাম্প। বিজ্ঞান ক্যাম্পটি যৌথভাবে আয়োজন করে তক্ষশীলা বিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি)। আয়োজনটির সমন্বয় করেন তক্ষশীলার পরিচালক নাদিমুল ইসলাম। ক্যাম্পটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির একাডেমিক সদস্যরা।
ক্যাম্পটিতে অংশ নেয় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, ম্যাপল লিফ স্কুল, নালন্দা বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল, একাডেমিয়া, স্কলার্স, কিং খালেদ ইনস্টিটিউট, আলী হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তক্ষশীলা বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শ্রেণির ৩০ জন শিক্ষার্থী। এই দশটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঁচদিন আনন্দের সাথে হাতে-কলমে বিজ্ঞানের নানা বিষয় জ্ঞান লাভ করে।
ক্যাম্পে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পাঁচটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি গ্রুপ বিজ্ঞানের নানা বিষয় হাতে কলমে বানিয়ে ভেতরের বিজ্ঞানটা জানার চেষ্টা করে। প্রতিদিন ক্যাম্পের শুরুতে শিক্ষার্থীদের একজন বাঙালী বিজ্ঞানীর জীবনের গল্প শুনানো হয়। পাঁচজন বিজ্ঞানীর মধ্যে ছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, অমর গোপাল বসু, এফ আর খান। বিজ্ঞানীর গল্প শুনে সকল শিক্ষার্থী ওই বিজ্ঞানীর জীবনের উপর একটি করে ছবি আঁকে।
ছবি আঁকার পর একেকদিন একেক বিষয়ে এসপিএসবির একাডেমিক সদস্যরা কথা বলেন। এসময় তাঁরা বিষয়গুলো হাতে কলমে করে দেখান, যা শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে উপভোগ করে। আলোচনার শেষে শিক্ষার্থীরা পাঁচটি দলে ভাগ হয়ে বিষয়গুলো আবারও নিজেরা হাতে-কলমে করে দেখে।
প্রথমদিন মেঘনাদ সাহা বিজ্ঞান ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ওমর ফারুক “বাসায় বানাই ল্যাবরেটরি” বিষয়ে কথা বলেন। দ্বিতীয়দিন এসপিএসবির একাডেমিক সদস্য কামরুল হাসান “আলো আমার আলো” বিষয়ে কথা বলেন। পরের দিনগুলোতে বুয়েটের আব্দুর রাজ্জাক “আলোর ঝিলিক”, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মোহাম্মদ শাফিন “পদার্থের ভিতরের কথা” বিষয়ে কথা বলেন। শেষদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইবরাহিম মুদ্দাচ্ছের “বিজ্ঞানে আনন্দ” বিষয়ে কথা বলেন।
৩০ মে সমাপনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষক খন্দকার সমাহার সালেম। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে বলেন, “বিজ্ঞান শিখতে হবে আনন্দের মাধ্যমে। তোমরা বিজ্ঞানীদের গল্প শুনে যে ছবি এঁকেছ তা আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে। তোমরা অনেক বড় হবে একদিন, তোমাদের জন্য এই শুভকামনা।”
সমাপনীতে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “বাচ্চাদের জন্য এমন আয়োজন সত্যিই ওদের জানার আগ্রহকে, জানার আনন্দকে বাড়িয়ে দিবে শতগুন। আমি চাই এমন আয়োজন আরও বেশি বেশি হোক।”
ক্যাম্পের সমন্বয়ক নাদিমুল ইসলাম বলেন, “বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতেই আমার ভালো লাগে। আনন্দের সাথে শিক্ষার ব্যাবস্থা করার জন্যই আশপাশের সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন করি। আমি চাই নিয়মিত এমন আয়োজন আমার বিদ্যালয়ে করতে।”
ক্যাম্পে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ওজায়েরকে ক্যাম্প নিয়ে জিজ্ঞেস করলে বলে, “আমার এই পাঁচদিন ক্যাম্পে এসে খুবই ভালো লেগেছে। আমার সামারের ছুটি এর চাইতে ভালোভাবে আর কোনকিছুতেই কাটাতে পারতাম না।” আরেক শিক্ষার্থী ধ্রুব চৌধুরী বলে, “এক্সপেরিমেন্ট দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাই যেগুলো শিখেছি তা আমি বাসায় গিয়ে আবার করে দেখি।”
ক্যাম্পে অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

Comments

comments

This entry was posted in . Bookmark the permalink.