ওয়ার্কশপ উইথ গুগল সায়েন্স ফেয়ার ফাইনালিস্ট সালিহা রেহানাজ

গত বছর গুগল সায়েন্স ফেয়ারের গ্লোবাল ফাইনালিস্টদের একজন ছিল সালিহা রেহানাজ। মেয়েদের জন্য পরিবেশবান্ধব ও দামে সাশ্রয়ী স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে সালিহা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগল আয়োজিত এই ফেয়ারে অসাধারণ সফলতা অর্জন করে।

মেয়েদের জন্যে যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সালিহা তৈরি করেছে, সেটা ব্যবহার করার পর ফেলে দিলে পরিবেশের সাথে ১-২ বছরের মধ্যে মিশে যাবে। “শ্রেষ্ঠ” নামের এই প্যাড তৈরিতে সালিহা ব্যবহার করেছে সুতির কাপড়, পাট ও নারকেলের খোসার মতো প্রাকৃতিক সব উপাদান। এই প্যাডে বাজারে প্রচলিত ন্যাপকিনগুলির মতো প্লাস্টিক নেই, ফলে এটি পরিবেশবান্ধব, বিষাক্ত উপাদানমুক্ত। গতকাল ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটিতে সালিহা তার এই মেনস্ট্রুয়াল প্যাড তৈরির পেছনের গল্প শুনিয়েছে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণা করার পদ্ধতি, প্রজেক্ট বানানোর প্রস্তুতি, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, রিপোর্ট লেখা এসব নিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা দিক নির্দেশনা পেয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অবস্থিত গুগল হেডকোয়ার্টারে অনুষ্ঠিত গুগল সায়েন্স ফেয়ারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতার গল্পও শুনেছে সবাই সালিহার কাছ থেকে। সালিহা আরো শুনিয়েছে তার তৈরি প্যাড নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা, তার অ্যাক্টিভিজমের কথা, তার নিজের প্রতিষ্ঠান ‘অনিলা’র কথা, যার মাধ্যমে সে তার প্যাড খুব কম দামে দেশের নারীদের কাছে ব্যবহারের জন্যে পৌঁছে দিতে চায়।

গুগল ২০১১ সাল থেকে গুগল সায়েন্স ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনের বৈচিত্র্য এবং নতুন সব গবেষণার স্বীকৃতি মেলে এই সায়েন্স ফেয়ারে। প্রথমে রিজিওনাল ফাইনালিস্ট, সেখান থেকে ১৬ জন গ্লোবাল ফাইনালিস্ট, এবং তারপর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় ধাপে ধাপে। প্রতিবছর সারা পৃথিবী থেকে হাজার হাজার প্রতিযোগী এই আয়োজনে অংশ নেয়। বাংলাদেশী কোন শিক্ষার্থীর গুগল সায়েন্স ফেয়ারে এরকম সফলতা এই প্রথম।

Comments

comments

This entry was posted in . Bookmark the permalink.