ভাজক টিস্যু

তুমি ছোটো বেলায় কোন গাছ লাগানোর কথা মনে করতে পারো? আমাদের আঙিনায় ছোট্ট একটা আম গাছ লাগিয়েছিলাম। তারপর আমিও বড় হলাম, আর ঐ আম গাছও। কিন্তু আম গাছ টা বড় হতে হতে বাড়ির ছাদ ছেড়েও অনেক উপরে উঠে গেল। গোটা বাড়িতে দিল ছায়া।
আচ্ছা, আমগাছ টা এত বড় হয়ে গেলো কী করে? শুধু আমগাছ নয়, বৃক্ষ বলো, গুল্ম বলো সবই কিন্তু বড় হয়ে যায়। কোনটা লম্বা হয়, কোনোটা হয় মোটা।আবার কোনোটা মোটা-লম্বা দুইটাই হয়।
কীভাবে হয়, সেই গল্পই শোনাবো আজ!

image0

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা গাছ

image1

বিশ্বের সবচেয়ে মোটা গাছ

গাছ কীভাবে বড় হয়?

বীজ থেকে অংকুরোদগমের পর একটি গাছ দু একটি পাতা নিয়ে জন্মায়। তারপর আস্তে আস্তে বড় হয়, মোটা হয়। এই ঘটনাটির পেছনে থাকে এক ধরনের কোষগুচ্ছ, যাকে বলা হয় ভাজক টিস্যু।

image2

 

ভাজক টিস্যু কী?

ভাজক টিস্যু হছে একধরণের জীবিত কোষগুচ্ছ যাদের,
⦁ কোষগুলো্র বিভাজন মানে ভাগ হওয়ার ক্ষমতা আছে।
⦁ অপেক্ষাকৃত ভাবে ছোটো এবং আকার-আকৃতিতে সমান।
⦁ এদের কোষপ্রাচীর পাতলা, সেলুলোজ নামের একধরণের কার্বোহাইড্রেট দিয়ে তৈরি।
⦁ নিউক্লিয়াস বড় আর সাইটোপ্লাজম ঘন যাতে একটি থেকে দুইটি কোষ হলেও কোষীয় উপাদানের কোনো ঘাটতি না হয়।
⦁ এদের মধ্যে কোনো কোষগহ্বর নেই, এমন কি কোনো ফাঁকও নেই।
⦁ কোষগুলো বিভাজিত হয় বলে এদের শ্বসন হারও বেশি। কারণ বেশি শক্তির প্রয়েজন হয়।

 

এই ভাজক টিস্যুগুলো থাকে গাছের শেকড়ের শেষ প্রান্তে, কাণ্ডশীর্ষে। আর এই অঞ্চলগুলো থেকে শুরু হয় গাছের বৃদ্ধি।

image3

পাশের ছবিটির দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাবে কোষের মধ্যে
ঘনীভূত গাঢ় বেগুনি নিউক্লিয়াস কী ভাবে তন্তুর মত হয়ে
বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।এভাবে বিভক্ত অংশগুলো আলাদা নিউক্লিয়াসে
পরিণত হয়ে আলাদা দুইটি কোষ তৈরি করে।ফলে কোষের সংখ্যা
বাড়ে।

 

ভাজক টিস্যুর রকমফেরঃ

প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যুঃ এরা শেকঁড় বা কাণ্ডের শুরুতেই অল্প জায়গা জুড়ে থাকে। এই জায়গা থেকেই কোষের প্রথম বৃদ্ধি শুরু হয়। এরা প্রাইমারি ভাজক টিস্যু তৈরি করে।
প্রাইমারি ভাজক টিস্যুঃ এরা বীজের ভেতরেই তৈরি হয় আর কাণ্ড,মূলের শুরুতে থেকে কোষের বৃদ্ধি ঘটায়। এদের বৃদ্ধির জন্যই গাছ লম্বা হতে থাকে।
সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যুঃ এরা মৃত স্থায়ী টিস্যু থেকে উৎপন্ন হয়। কাছের কাণ্ড মোটা হয় এই টিস্যু গুলোর বৃদ্ধির ফলে।

image4

ছবিটিতে দেখ, গাঢ় নীল অংশ টি প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যু যা বিভাজিত হয়ে পরবর্তিতে হাল্কা নীল রঙের প্রাইমারি ভাজক টিস্যুতে পরিণত হয় । মাঝখানের হলুদ অংশটি স্থায়ী টিস্যু যা সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু (সবুজ অংশ) তৈরি করে। এই ভাজক টিস্যু গুলো পুনঃপুন ভাগ হতে থাকে এবং উৎপন্ন হতে থাকে।

এভাবে ভাজক টিস্যুর কোষ গুলো বার বার বিভাজন ও বৃদ্ধির মাধ্যমেই আমাদের ঐ আম গাছ, এবং অন্যান্য গাছ গুলো দৈর্ঘ্য আর প্রস্থে বড় হয়ে উঠে।

 

-রুমানা ইসলাম রানী

শিক্ষার্থী, কেমিস্ট্রি, ঢাবি।

 

Comments

comments