শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস অ্যাওয়ার্ড পেল ৫০ শিক্ষার্থী | Prothom-Alo

শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস অ্যাওয়ার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আহমেদ দীপ্ত

                             শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস অ্যাওয়ার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা।

 আহমেদ দীপ্তউদ্ভাবনী প্রকল্প, গবেষণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপনের জন্য ৫০ জন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী পেল ‘বিএএফ-এসপিএসবি শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস ২০১৬’ অ্যাওয়ার্ড।
আজ শনিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) বিজ্ঞান কংগ্রেসের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএএফ) যৌথভাবে গতকাল শুক্রবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) এই বিজ্ঞান কংগ্রেসের আয়োজন করে। দুদিনব্যাপী এবারের কংগ্রেসের স্লোগান ছিল ‘বিজ্ঞানে চাই মাপজোখ।’
পোস্টারের জন্য প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে তৃতীয় গ্রেডে পড়ুয়া সানবিমস স্কুলের আরিশা চৌধুরী। আরিশার পোস্টারের বিষয়বস্তু ছিল ‘টেস্ট অব টাং’। জিহ্বার যে যে অংশ মিষ্টি, টক, ঝাল, তিতা ইত্যাদি স্বাদ পায় সেটা চিহ্নিত করে পোস্টারে উপস্থাপন করেছে সে। আরিশা জানায়, সে দারুণ খুশি।বিজ্ঞানের বিভিন্ন মজার দিকে তার আগ্রহ খুব বেশি।
নটর ডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক হোসেন আকিব পেয়েছেন সেরা প্রকল্পের অ্যাওয়ার্ড ‘পেপার অব কংগ্রেস’। তাঁর প্রকল্পের বিষয়বস্তু ছিল ‘এমপেমবা ইফেক্ট’। যেখানে তিনি দেখিয়েছেন একই পরিমাণ গরম পানি ও ঠান্ডা পানি রেফ্রিজারেটরে রাখা হলে গরম পানিটি আগে ঠান্ডা হবে।
ইশতিয়াক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বই পড়ার বাইরেও যে বিজ্ঞানের জগৎ কত মজার তা বিজ্ঞান কংগ্রেসে আসলেই বোঝা যায়। আমি গত চারটি বিজ্ঞান কংগ্রেসেই অংশগ্রহণ করেছি।’
রিয়াজুল জান্নাত ও সাদিয়া সুলতানা সিনিয়র ক্যাটাগরিতে পোস্টার তৈরির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। জরুরি অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁরা যৌথভাবে ‘সেফটিমেট’ নামে একটি মডেল ঘড়ির পোস্টার উপস্থাপন করেন। ময়মনসিংহ মমিনুন্নিছা সরকারি মহিলা কলেজের এই দুই শিক্ষার্থীর এবারই প্রথম বিজ্ঞান কংগ্রেসে আসা।
রিয়াজুল জান্নাত বলেন, ‘আমরা অনেক এক্সাইটেড। এই ধরনের আয়োজন আরও হওয়া উচিত।’
আজ সকাল সাড়ে দশটায় সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। পুরস্কার বিতরণের আগে লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন মজার মজার প্রশ্নের উত্তর দেন। এক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ছিল, মানুষ কী বানর থেকে এসেছে কি না? জবাবে জাফর ইকবাল বলেন, ‘বানর, মানুষ, শিম্পাঞ্জি, গরিলা-এরা সব একই প্রজাতির। আর ডারউইনের তত্ত্বও যুক্তি দিয়ে প্রমাণিত। বিবর্তনের ফলে বুদ্ধিমান হয়ে মানুষ হয়েছে। আর বানর, বানরই রয়ে গেছে।’
উদ্ভাবনী প্রকল্প, গবেষণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপন—এই তিন শাখায় প্রায় ২৫০টি প্রকল্প নিয়ে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে। এগুলোর মধ্যে উদ্ভাবনী প্রকল্প ৯৫টি। প্রতিটি শাখায় প্রাইমারি, জুনিয়র ও সিনিয়র—এই তিন বিভাগে অংশ নিয়েছে যথাক্রমে তৃতীয় থেকে পঞ্চম, ষষ্ঠ থেকে নবম এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।

Comments

comments